দুই-তিন বছরের শিশু সবকিছু "নিজে করব" বলতে শুরু করে — দাঁত মাজাও এর ব্যতিক্রম নয়। এই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে সারাজীবনের অভ্যাস গড়ে তোলার এটাই সেরা সময়। তবে মনে রাখবেন, শিশুর হাত এখনো দাঁতের সব কোণে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না।
কতটা নিজে করতে দেবেন
| বয়স | শিশুর ভূমিকা | বড়দের ভূমিকা |
|---|---|---|
| ১৮ মাস – ৩ বছর | ব্রাশ ধরা, অনুকরণ করা, খেলা | মূল ব্রাশিং আপনি করবেন |
| ৩ – ৬ বছর | নিজে ব্রাশ করার চেষ্টা | শেষে আপনি আরেকবার ভালো করে করে দেবেন |
| ৬ – ৮ বছর | বেশিরভাগ নিজে | তত্ত্বাবধান, মাঝে মাঝে পরীক্ষা |
সহজ নিয়ম: শিশু যতদিন নিজে জুতার ফিতা বাঁধতে বা সুন্দর করে লিখতে না পারে, ততদিন তার ব্রাশিংয়ে আপনার সাহায্য লাগবে।
ধাপে ধাপে শেখানো
১. দেখিয়ে শেখান শিশুর সামনে নিজে দাঁত মাজুন। শিশুরা অনুকরণ করে সবচেয়ে ভালো শেখে।
২. নিজের জিনিস দিন শিশুর পছন্দের রং বা ছবির নিজস্ব ছোট ব্রাশ, নিজের কাপ — নিজের জিনিস হলে আগ্রহ বাড়ে।
৩. সঠিক পরিমাণ টুথপেস্ট তিন বছরের কম বয়সে চালের দানার সমান, তিন বছরের পর মটরদানার সমান ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট। টুথপেস্ট আপনি লাগিয়ে দিন — শিশুর হাতে টিউব দেবেন না।
৪. একটা ক্রম শেখান "উপরের দাঁত সামনে — উপরের দাঁত ভেতরে — নিচের দাঁত সামনে — নিচের দাঁত ভেতরে — চিবানোর জায়গা।" প্রতিবার একই ক্রমে করলে কোনো অংশ বাদ পড়ে না।
৫. ছোট বৃত্ত জোরে ঘষাঘষি নয়, "ছোট ছোট গোল গোল করে" — আয়নার সামনে দেখিয়ে দিন।
৬. থুতু ফেলা শেখান প্রথমে শুধু পানি দিয়ে থুতু ফেলার অনুশীলন করান। ব্রাশের পর টুথপেস্ট থুতু ফেলে দেবে, কিন্তু অনেক পানি দিয়ে কুলি করার দরকার নেই — সামান্য ফ্লোরাইড দাঁতে থাকা ভালো।
৭. শেষে আপনার পালা "এবার আমি দেখি সব পোকা গেছে কি না" — বলে আরেকবার ভালো করে ব্রাশ করে দিন।
মজার উপায়
- দুই মিনিটের গান — ব্রাশের সময় একটা প্রিয় গান বা ছড়া; গান শেষ, ব্রাশ শেষ
- বালুঘড়ি বা টাইমার
- গল্প: "দাঁতের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা চিনি-পোকাদের তাড়াও!"
- খেলনার দাঁত মাজা: পুতুল বা খেলনা প্রাণীর দাঁত মাজা দিয়ে শুরু
- স্টিকার চার্ট: প্রতিদিন সকাল-রাতে ব্রাশ করলে একটা স্টিকার
- পরিবারের সবাই একসাথে রাতে ব্রাশ করার সময়
যদি কান্নাকাটি করে
- শান্ত থাকুন — ব্রাশ বাদ দেওয়া যাবে না, কিন্তু যুদ্ধও নয়
- পছন্দ দিন: "আগে উপরের দাঁত না নিচের?"
- ক্লান্ত হওয়ার আগে, রাতের রুটিনের শুরুতে ব্রাশ করান
- ছোট্ট সাফল্যেও প্রশংসা
ভালো অভ্যাসের সাথে আরও যা
- রাতে ব্রাশের পর আর কিছু খাওয়া বা মিষ্টি দুধ নয় — শুধু পানি
- মিষ্টি, চকলেট, জুস সীমিত — খেলে খাবারের পর, তারপর পানি খাওয়া
- ফিডার ছেড়ে কাপে অভ্যস্ত করা
- বছরে অন্তত একবার দাঁতের ডাক্তারের চেকআপ — প্রথম দিকের ভিজিটগুলো মজার অভিজ্ঞতা করে তুলুন, ভয়ের নয়
কখন দাঁতের ডাক্তার দেখাবেন
- দাঁতে সাদা, বাদামি বা কালো দাগ বা গর্ত
- দাঁতে ব্যথা, খেতে কষ্ট
- মাড়ি থেকে নিয়মিত রক্ত পড়া বা ফোলা
- মুখে দুর্গন্ধ যা ব্রাশেও যায় না
- দাঁত আঁকাবাঁকা বা ভাঙা
সম্পর্কিত গাইড
- শিশুর বিকাশ ও খেলা: বয়সভিত্তিক সহজ গাইড
- ১৮ মাসের শিশু: বৃদ্ধি, বিকাশ ও আচরণে যা দেখবেন
- জেদি শিশুকে সামলাবেন কীভাবে: রাগ না করে কাজের কৌশল
- শিশুর দুধদাঁত কোনটা কখন ওঠে
- শিশুর দৈনিক রুটিন
এই তথ্য কোথা থেকে এসেছে
ছোট্ট শিশুকে নিজে দাঁত মাজতে শেখাবেন কীভাবে লেখার তথ্য যাচাই করতে unicef.org, insight.com.bd, gleeera.com ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।
