প্রথমবার নবজাতককে কোলে নিতে গিয়ে অনেকেরই হাত কাঁপে — এত ছোট, এত নরম! ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কয়েকটি মূল নিয়ম জানলে দ্রুতই আত্মবিশ্বাস আসে, আর শিশুও নিরাপদ বোধ করে।

কোলে নেওয়ার আগে

  • হাত ধুয়ে নিন — নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
  • ঘড়ি, আংটি, চুড়ি, সেফটিপিন খুলে রাখুন বা সাবধান থাকুন — শিশুর ত্বকে আঁচড় লাগতে পারে
  • নিজে আরাম করে বসুন বা স্থির হয়ে দাঁড়ান
  • শান্ত থাকুন — শিশু আপনার অস্থিরতা টের পায়

মূল নিয়ম: মাথা ও ঘাড়ের সাপোর্ট

নবজাতকের মাথা শরীরের তুলনায় ভারী, আর ঘাড়ের পেশি এখনো দুর্বল। প্রায় তিন-চার মাস বয়স পর্যন্ত শিশু নিজে মাথা স্থির রাখতে পারে না। তাই কোলে নেওয়া, নামানো বা অবস্থান বদলানো — প্রতিবার এক হাত মাথা ও ঘাড়ের নিচে রাখুন।

কীভাবে তুলবেন

১. শিশুর কাছে ঝুঁকে এক হাত মাথা ও ঘাড়ের নিচে, অন্য হাত কোমর ও নিতম্বের নিচে রাখুন ২. ধীরে, মসৃণভাবে শিশুকে তুলে নিজের বুকের কাছে আনুন ৩. শিশুকে নিজের শরীরের সাথে লাগিয়ে রাখুন — এতে শিশু নিরাপদ বোধ করে

কীভাবে নামাবেন

একই নিয়মে উল্টো ক্রমে: বিছানার কাছে ঝুঁকে প্রথমে কোমর-নিতম্ব নামান, তারপর মাথা আলতো করে নামিয়ে হাত সরান। ঘুমানোর জন্য সবসময় চিত করে শোয়ান।

কোলে রাখার কয়েকটি ভঙ্গি

১. কোলের দোলনা (ক্র্যাডল হোল্ড) শিশুর মাথা আপনার কনুইয়ের ভাঁজে, একই হাতে পিঠ ও নিতম্ব, অন্য হাত নিচ থেকে সাপোর্ট। বুকের দুধ খাওয়ানো ও আদর করার সবচেয়ে প্রচলিত ভঙ্গি।

২. কাঁধে (শোল্ডার হোল্ড) শিশুকে খাড়া করে আপনার কাঁধে মাথা রাখুন, এক হাত নিতম্বের নিচে, অন্য হাত মাথা-ঘাড়ে। ঢেকুর তোলানো ও শান্ত করার জন্য দারুণ। খেয়াল রাখুন শিশুর নাক-মুখ কাপড়ে চেপে না যায়।

৩. মুখোমুখি (ফেস টু ফেস) এক হাত মাথা-ঘাড়ে, অন্য হাত নিতম্বে রেখে শিশুকে নিজের সামনে মুখোমুখি ধরুন। চোখে চোখ রেখে কথা বলা ও খেলার জন্য ভালো।

৪. পেটের উপর (টামি হোল্ড) শিশুকে উপুড় করে আপনার বাহুর উপর রাখুন, মাথা কনুইয়ের দিকে, হাত শিশুর বুকের নিচে। পেটের গ্যাস বা অস্বস্তিতে অনেক শিশু আরাম পায়। শিশু জেগে থাকা অবস্থায় এবং আপনার পূর্ণ মনোযোগে।

৫. কোলে বসিয়ে (ল্যাপ হোল্ড) বসে আপনার ঊরুর উপর শিশুকে শুইয়ে দিন, মাথা হাঁটুর দিকে, পা আপনার পেটের দিকে, দুই হাতে মাথা সাপোর্ট দিন।

বুকের দুধ খাওয়ানোর পর

শিশুকে কিছুক্ষণ খাড়া করে কাঁধে বা কোলে রাখুন, পিঠে আলতো চাপড় দিয়ে ঢেকুর তোলান। এতে বাতাস বেরিয়ে যায়, দুধ তোলা কম হয়।

কাঁদতে থাকা শিশুকে

  • কাঁধে নিয়ে ধীরে হাঁটুন, হালকা দোল দিন
  • ত্বকে ত্বক লাগিয়ে বুকে রাখুন — আপনার হৃৎস্পন্দন শিশুকে শান্ত করে
  • মৃদু "শ্‌শ্‌" শব্দ বা গুনগুন গান
  • পেটের উপর ভঙ্গিতে আলতো দোল

গোসলের সময়

এক হাত দিয়ে সবসময় শিশুর মাথা-ঘাড় পানির উপরে ধরে রাখুন, শিশুর বগলের নিচ দিয়ে আপনার হাত গলিয়ে দিলে পিছলে যাওয়ার ভয় কম। ভেজা শিশু পিচ্ছিল — কখনো এক হাতে তুলবেন না।

যা কখনো করবেন না

  • শিশুকে ঝাঁকাবেন না — রাগে, খেলায় বা ঘুম ভাঙাতে কোনোভাবেই নয়। এতে মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত (শেকেন বেবি সিনড্রোম) হতে পারে
  • শিশুকে উপরে ছুড়ে খেলা
  • শিশু কোলে থাকা অবস্থায় গরম চা-কফি পান বা রান্না
  • শিশু কোলে নিয়ে সোফা বা চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়া

পরিবারের অন্যদের জন্য

ভাইবোন বা অতিথিরা কোলে নিতে চাইলে তাদের বসিয়ে, কোলে বালিশ দিয়ে, আপনার তত্ত্বাবধানে দিন — এবং আগে হাত ধোয়ার কথা মনে করিয়ে দিন।

সম্পর্কিত গাইড

এই তথ্য কোথা থেকে এসেছে

নবজাতককে কীভাবে কোলে নেবেন: নিরাপদ ও আরামদায়ক উপায় লেখার তথ্য যাচাই করতে who.int, who.int, unicef.org ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।