শিশুর ত্বকের যত্নে কম পণ্য, মৃদু পণ্য আর নিয়মিত পরিষ্কার সবচেয়ে কাজের। শিশুর ত্বক বড়দের চেয়ে পাতলা, তাই কড়া সুগন্ধি, অ্যালকোহল বা অনেক রাসায়নিক উপাদান সহজে জ্বালা করতে পারে। "সেরা" বেবি লোশন বা শ্যাম্পু হলো সেটি, যার লেবেল পরিষ্কার, সুগন্ধি কম বা নেই, আর আপনার শিশুর ত্বকে প্যাচ টেস্টে কোনো সমস্যা করে না। নিচে প্রতিটি পণ্য কখন লাগে, কেনার আগে কী দেখবেন, আর কোন সতর্কতা জরুরি, তা দেওয়া হলো।

এক নজরে: কোনটা কখন

পণ্য কখন লাগে কতটুকু কেনার আগে দেখুন
বেবি শ্যাম্পু চুল ধোয়ার দিন, সপ্তাহে ২–৩ বার মটরদানার মতো টিয়ার-ফ্রি, সুগন্ধি কম
বেবি সাবান/ওয়াশ শরীরের ময়লা জায়গায় অল্প, পুরো শরীরে প্রতিদিন নয় মৃদু, pH-সামঞ্জস্য, সুগন্ধি কম
বেবি লোশন গোসলের পর ত্বক শুকনো লাগলে পাতলা স্তর প্যারাবেন-মুক্ত, হালকা, সুগন্ধি কম
বেবি অয়েল মালিশের সময় কয়েক ফোঁটা উপাদানের তালিকা, বাদাম থাকলে সতর্কতা
ডায়াপার র‍্যাশ ক্রিম ডায়াপার বদলের সময় পাতলা স্তর জিংক অক্সাইডযুক্ত

লেবেলে যা দেখবেন

  • সুগন্ধি (fragrance/parfum): যত কম তত ভালো, বিশেষ করে নবজাতক ও সংবেদনশীল ত্বকে।
  • অ্যালকোহল: ত্বক শুষ্ক করে; ওয়াইপস ও লোশনে এড়িয়ে চলুন।
  • প্যারাবেন-মুক্ত: অনেক বাবা-মা এটি পছন্দ করেন।
  • উপাদানের পূর্ণ তালিকা ও মেয়াদ: তালিকা না থাকলে বা মেয়াদ অস্পষ্ট হলে কিনবেন না।
  • বাদাম বা অ্যালার্জেন: পরিবারে বাদামে অ্যালার্জি থাকলে আমন্ড তেলযুক্ত পণ্যের আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
  • "হাইপোঅ্যালার্জেনিক", "ডার্মাটোলজিস্ট টেস্টেড": এগুলো সহায়ক তথ্য, তবে নিশ্চয়তা নয়; প্যাচ টেস্ট তবু করুন।

প্রতিটি পণ্য সম্পর্কে

বেবি শ্যাম্পু

প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু হালকা গরম পানিই যথেষ্ট। পরে সপ্তাহে ২–৩ বার অল্প শ্যাম্পু। টিয়ার-ফ্রি শ্যাম্পু চোখে জ্বালা কম দেয়, তবে একেবারে জ্বালাহীন নয়; ধোয়ার সময় মাথা পেছনে হেলিয়ে রাখুন।

বেবি সাবান বা ওয়াশ

শিশুর পুরো শরীরে প্রতিদিন সাবানের দরকার নেই। ঘাড়ের ভাঁজ, বগল ও ডায়াপারের জায়গায় অল্প মৃদু সাবান যথেষ্ট; বাকি শরীর পানি দিয়েই পরিষ্কার হয়। কড়া অ্যান্টিসেপটিক সাবান শিশুর ত্বকের জন্য নয়।

বেবি লোশন

গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে চেপে মুছে, ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই পাতলা করে লাগান। গরমের দিনে অনেক শিশুর লোশনই লাগে না; শীতে, এসি ঘরে বা কনুই-হাঁটুর শুকনো জায়গায় বেশি দরকার হয়।

বেবি অয়েল

বাংলাদেশে শিশুকে তেল মালিশের রীতি পুরোনো, আর হালকা মালিশ শিশু ও মা-বাবার ঘনিষ্ঠতা বাড়ায়। কয়েক ফোঁটা হাতে গরম করে আলতো চাপে মালিশ করুন। নাক, কান ও নাভিতে তেল দেবেন না। তেল লাগানো শিশু পিচ্ছিল হয়, সাবধানে ধরুন।

প্যাচ টেস্ট: প্রতিটি নতুন পণ্যে

১. শিশুর হাতের ভেতরের দিকে ছোট জায়গায় অল্প পরিমাণ লাগান। ২. ২৪ ঘণ্টা দেখুন। ৩. লাল ভাব, ফুসকুড়ি, ফোলা বা চুলকানি হলে ব্যবহার করবেন না।

একসাথে একাধিক নতুন পণ্য শুরু করবেন না; সমস্যা হলে কোনটা দায়ী বোঝা যাবে না।

নিরাপদ গোসল

AAP-এর গোসলের নির্দেশনা অনুযায়ী নাভি না শুকানো পর্যন্ত স্পঞ্জ বাথ দিন। পরে টাবে ৫–৮ সেন্টিমিটারের বেশি পানি নয়, কনুই ডুবিয়ে তাপ পরীক্ষা, আর গোসলের পুরো সময় এক হাত শিশুর গায়ে। শিশুকে কখনো এক মুহূর্তের জন্যও পানিতে একা রাখবেন না।

যা এড়িয়ে চলবেন

  • বড়দের সাবান, শ্যাম্পু বা পারফিউম শিশুর গায়ে
  • পাউডার শিশুর মুখের কাছে ঝাঁকানো: শ্বাসের সাথে ভেতরে যেতে পারে
  • কাটা, র‍্যাশ বা একজিমার জায়গায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নতুন পণ্য
  • "ঘরোয়া" মিশ্রণ যার উপাদান নিশ্চিত নয়

বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা

শীতে সরিষার তেল মালিশ অনেক পরিবারের রীতি, তবে সরিষার তেল কিছু শিশুর ত্বকে জ্বালা করতে পারে; সমস্যা হলে মৃদু তেলে বদলান। গরমে ঘামাচি হলে ভারী তেল-লোশন না দিয়ে শিশুকে ঠান্ডা ও শুকনো রাখুন, ঢিলা সুতির জামা পরান। আমদানি করা পণ্য কেনার সময় লেবেল, মেয়াদ আর আমদানিকারকের তথ্য দেখে নিন।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

ত্বকে র‍্যাশ যদি ছড়িয়ে পড়ে, ফোসকা বা পুঁজ হয়, শিশু খুব চুলকায় ও ঘুমাতে না পারে, ত্বক খুব শুকনো-ফাটা থাকে (একজিমার লক্ষণ হতে পারে), বা র‍্যাশের সাথে জ্বর থাকে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সম্পর্কিত গাইড