বেবি ড্রেস কেনার সময় নকশার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সঠিক মাপ, আরামদায়ক কাপড়, নিরাপদ গঠন আর মৌসুম। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় গায়ে লাগা পোশাকের জন্য নরম সুতি সবচেয়ে আরামদায়ক। সাইজের জন্য বয়সের লেবেল নয়, শিশুর উচ্চতা দেখুন, আর দুই সাইজের মাঝামাঝি হলে বড়টি নিন। শিশু দ্রুত বড় হয়, তাই একসাথে অনেক ছোট সাইজের জামা না কিনে প্রয়োজন বুঝে কিনুন।
সঠিক মাপ নিন
বয়সের লেবেল ব্র্যান্ডভেদে বদলায়, আর একই বয়সের দুটি শিশুর উচ্চতা অনেক আলাদা হতে পারে। তাই:
- উচ্চতা: শিশুকে জুতা ছাড়া দেয়ালে পিঠ লাগিয়ে দাঁড় করিয়ে মাপুন; ছোট বাবুকে সমতল বিছানায় শুইয়ে মাথা থেকে গোড়ালি।
- বুক: বগলের নিচে সবচেয়ে চওড়া জায়গায়, ফিতা ঢিলা রেখে।
- পুরোনো জামা: ভালোভাবে মাপে হয় এমন একটি জামা সমান করে রেখে কাঁধ থেকে নিচ পর্যন্ত মেপে নতুন জামার সাথে মেলান।
উচ্চতা অনুযায়ী আমাদের পূর্ণ চার্ট দেখুন সাইজ গাইডে।
কোন কাপড় ভালো: সুতি, পলিয়েস্টার নাকি মিশ্র
| কাপড় | সুবিধা | অসুবিধা | কোথায় ভালো |
|---|---|---|---|
| ১০০% সুতি | নরম, ঘাম শোষে, বাতাস চলাচল করে, চুলকায় কম | ধোয়ায় সামান্য কুঁচকাতে পারে, দ্রুত ভাঁজ পড়ে | প্রতিদিনের জামা, ঘুমের পোশাক, নবজাতক |
| মসলিন (পাতলা সুতি) | খুব হালকা, গরমে আরাম | পাতলা, শীতে একা যথেষ্ট নয় | সোয়াডল, কাঁথা, গরমের জামা |
| পলিয়েস্টার | টেকসই, দ্রুত শুকায়, রং ভালো থাকে | ঘাম আটকায়, গরমে অস্বস্তি, কারও ত্বকে চুলকায় | জ্যাকেট, বাইরের স্তর |
| সুতি-পলিয়েস্টার মিশ্র | কম কুঁচকায়, টেকসই | বিশুদ্ধ সুতির চেয়ে কম বাতাস চলাচল | স্কুলের পোশাক, খেলার জামা |
| উল | শীতে গরম | সরাসরি গায়ে চুলকাতে পারে | সুতির ওপরে শীতের স্তর |
| টিউল, লেস | উৎসবের লুক | খসখসে | পার্টি ড্রেসের ওপরের স্তর, নিচে নরম লাইনিং জরুরি |
সংক্ষেপে: যা শিশুর ত্বক ছোঁয়, তা সুতির হোক। পার্টি ড্রেসে টিউল থাকলে দেখে নিন ভেতরে নরম লাইনিং আছে কি না।

নবজাতকের পোশাক: নিরাপত্তা আগে
AAP নবজাতকের জন্য সহজে পরানো ও খোলা যায় এমন পোশাকের পরামর্শ দেয়। বেছে নিন:
- সামনে খোলা বা বড় গলার জামা, যাতে মাথা দিয়ে জোর করে গলাতে না হয়
- নিচে স্ন্যাপ বাটন, যাতে ডায়াপার বদলানো সহজ
- ট্যাগ-লেস, নরম সেলাই
এড়িয়ে চলুন: ঢিলা বোতাম, গলায় দড়ি বা লম্বা ফিতা, ছোট খুলে যাওয়া সাজসজ্জা, পিঠে শক্ত বোতাম (নবজাতক বেশিরভাগ সময় চিত হয়ে শুয়ে থাকে)।

বয়স অনুযায়ী কী কয়টা লাগে
| বয়স | মূল পোশাক | পরিমাণ (আনুমানিক) |
|---|---|---|
| ০–৩ মাস | বডিস্যুট/ওয়ানসি, রম্পার, সোয়াডল | ৫–৭টি বডিস্যুট, ২–৩টি রম্পার |
| ৩–১২ মাস | স্ন্যাপ বাটনের রম্পার ও সেট, পায়জামা | ৬–৮ সেট |
| ১–৩ বছর | টপ-প্যান্ট, ফ্রক, পাঞ্জাবি, ঘুমের জামা | ৬–৮ সেট + ১–২টি অনুষ্ঠানের পোশাক |
| ৩–৬ বছর | স্কুল ও খেলার পোশাক, উৎসবের পোশাক | প্রয়োজন অনুযায়ী |
নবজাতকের পূর্ণ তালিকা দেখুন নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকায়।
মৌসুম অনুযায়ী পরিকল্পনা
- গ্রীষ্ম (মার্চ–জুন): হালকা সুতি, হাফ হাতা, ঢিলা কাট। ঘামাচি এড়াতে দিনে দুবার জামা বদলানো লাগতে পারে।
- বর্ষা (জুলাই–সেপ্টেম্বর): দ্রুত শুকায় এমন পাতলা কাপড়, বাড়তি সেট; সন্ধ্যায় মশার জন্য ফুলহাতা।
- শীত (ডিসেম্বর–জানুয়ারি): কয়েকটি পাতলা স্তর, সুতির ওপরে উল, টুপি-মোজা। বিস্তারিত পড়ুন শীতে শিশুর পোশাক গাইডে।
- ঈদ ও অনুষ্ঠান: অন্তত ৭–১০ দিন আগে কিনুন, যাতে সাইজ না মিললে বদলানোর সময় থাকে।
গুছিয়ে রাখার ছোট উপায়
প্রতিদিনের, বাইরে যাওয়ার ও অতিরিক্ত পোশাক আলাদা করে রাখলে দরকারের সময় দ্রুত সঠিক সেটটি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। ছোট হয়ে যাওয়া জামা আলাদা বাক্সে রাখুন, পরের সন্তান বা আত্মীয়দের কাজে লাগবে।

কেনার আগে চেকলিস্ট
- সাইজ চার্ট ও বদলের নিয়ম দেখেছেন
- কাপড়ের ধরন ও ধোয়ার নির্দেশনা পড়েছেন
- গায়ে লাগা অংশ নরম, ট্যাগ বা সেলাই খোঁচা দেয় না
- বোতাম, জিপার ও সাজসজ্জা শক্ত করে লাগানো
- ডায়াপার বদলানো সহজ
- একই ধরনের অতিরিক্ত জামা কেনা হচ্ছে না
প্রথমবার পরানোর আগে
নতুন জামা হালকা ডিটারজেন্টে একবার ধুয়ে নিন, ছায়ায় শুকান। গাঢ় রঙের জামা প্রথম কয়েকবার আলাদা ধোবেন। ব্লিচ বা কড়া সুগন্ধি সফটনার শিশুর জামায় ব্যবহার করবেন না।
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
নবজাতকের জন্য আত্মীয়রা প্রায়ই জামা উপহার দেন, আর বেশিরভাগই সবচেয়ে ছোট সাইজের। তাই নিজে কেনার সময় কিছু ৩–৬ মাস ও ৬–১২ মাস সাইজ রাখুন। বাজারের জামায় অনেক সময় কাপড়ের তথ্য লেখা থাকে না; সন্দেহ হলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন, অনলাইনে কিনলে কাপড় ও মাপের তথ্য এবং এক্সচেঞ্জ নীতি দেখে নিন।

