"আমার বাচ্চা কি ঠিকমতো বাড়ছে?" — এক থেকে তিন বছরের মধ্যে শিশুর বৃদ্ধির গতি প্রথম বছরের তুলনায় কমে আসে, আর অনেক শিশু হঠাৎ খাওয়াও কমিয়ে দেয়। এতে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা বাড়ে। নিচের চার্ট একটা ধারণা দেবে, তবে মনে রাখবেন — একটা সংখ্যার চেয়ে বৃদ্ধির ধারা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গড় ওজন ও উচ্চতা (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাঝামাঝি মান)

ছেলে শিশু

বয়স গড় ওজন গড় উচ্চতা
১২ মাস প্রায় ৯.৬ কেজি প্রায় ৭৬ সেমি
১৮ মাস প্রায় ১০.৯ কেজি প্রায় ৮২ সেমি
২৪ মাস প্রায় ১২.২ কেজি প্রায় ৮৭ সেমি
৩৬ মাস প্রায় ১৪.৩ কেজি প্রায় ৯৬ সেমি

মেয়ে শিশু

বয়স গড় ওজন গড় উচ্চতা
১২ মাস প্রায় ৮.৯ কেজি প্রায় ৭৪ সেমি
১৮ মাস প্রায় ১০.২ কেজি প্রায় ৮১ সেমি
২৪ মাস প্রায় ১১.৫ কেজি প্রায় ৮৬ সেমি
৩৬ মাস প্রায় ১৩.৯ কেজি প্রায় ৯৫ সেমি

এগুলো গড় — অর্ধেক সুস্থ শিশু এর চেয়ে বেশি, অর্ধেক কম। স্বাভাবিক সীমা এর চারপাশে বেশ বিস্তৃত।

বৃদ্ধির গতি

  • প্রথম বছরে শিশু অনেক দ্রুত বাড়ে — ওজন প্রায় তিনগুণ
  • দ্বিতীয় বছরে ওজন বাড়ে মোটামুটি ২–৩ কেজি, উচ্চতা প্রায় ১০–১২ সেমি
  • তৃতীয় বছরে ওজন প্রায় ২ কেজি, উচ্চতা প্রায় ৮–৯ সেমি

এই সময় শিশু আগের চেয়ে কম খেতে পারে — কারণ বৃদ্ধির গতিও কম। এটা স্বাভাবিক।

গ্রোথ চার্ট কীভাবে বুঝবেন

শিশুর স্বাস্থ্য কার্ডে বা ডাক্তারের কাছে গ্রোথ চার্টে বক্ররেখা (পার্সেন্টাইল লাইন) থাকে।

  • ৫০তম পার্সেন্টাইল মানে গড়
  • ১৫তম পার্সেন্টাইল মানে ১০০ জন সমবয়সী শিশুর মধ্যে ১৫ জন তার চেয়ে ছোট
  • শিশু নিজের রেখা ধরে স্থিরভাবে বাড়ছে কি না — সেটাই আসল কথা। ১৫তম রেখায় থেকে নিয়মিত বাড়া শিশু সুস্থ হতে পারে।
  • চিন্তার বিষয়: রেখা থেকে নিচে নেমে যাওয়া, বৃদ্ধি থেমে যাওয়া, বা খুব নিচের (৩য় পার্সেন্টাইলের নিচে) বা খুব উপরের সীমায় থাকা

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে খর্বতা (বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা) একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা — তাই নিয়মিত মাপা ও পুষ্টির দিকে নজর জরুরি।

কোন বিষয়ে বৃদ্ধি প্রভাবিত হয়

  • বংশগত বৈশিষ্ট্য: বাবা-মায়ের উচ্চতা
  • পুষ্টি: প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন এ ও ডি
  • ঘন ঘন অসুখ: ডায়রিয়া, কৃমি, সংক্রমণ
  • জন্মের ওজন ও সময়ের আগে জন্ম
  • ঘুম ও শারীরিক কার্যকলাপ
  • কিছু হরমোন বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ (তুলনামূলক কম)

সুস্থ বৃদ্ধির জন্য

  • বৈচিত্র্যময় খাবার: প্রতিদিন ভাত/রুটি, ডাল, মাছ/মাংস/ডিম, শাকসবজি, ফল, দুধ বা দই
  • দুই বছর বা তার বেশি বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত দুধ বা মিষ্টি পানীয় নয় — পেট ভরে থাকলে আসল খাবার খায় না
  • প্রতি ছয় মাসে কৃমিনাশক (ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে)
  • হাত ধোয়া ও নিরাপদ পানি — ডায়রিয়া প্রতিরোধ
  • সময়মতো সব টিকা
  • পর্যাপ্ত ঘুম — এই বয়সে দিনে মোট ১১–১৪ ঘণ্টা
  • খেলাধুলা ও বাইরে সময়
  • নিয়মিত ওজন ও উচ্চতা মাপা — প্রতি ৩–৬ মাসে

কখন ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন

  • কয়েক মাস ধরে ওজন বাড়ছে না বা কমছে
  • গ্রোথ চার্টে রেখা নিচে নেমে যাচ্ছে
  • সমবয়সীদের তুলনায় অনেক ছোট বা অনেক বেশি ভারী
  • খাওয়ায় দীর্ঘদিন অনীহা, সাথে ক্লান্তি বা ফ্যাকাশে ভাব
  • ঘন ঘন অসুখ

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। শিশুর বৃদ্ধি নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে গ্রোথ চার্ট দেখিয়ে পরামর্শ নিন।

সম্পর্কিত গাইড

এই তথ্য কোথা থেকে এসেছে

১–৩ বছরের শিশুর উচ্চতা ও ওজন: গড় চার্ট ও বোঝার নিয়ম লেখার তথ্য যাচাই করতে unicef.org, insight.com.bd, gleeera.com ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসা সিদ্ধান্তের জন্য নিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।