লাজুকতা কোনো দোষ নয়; অনেক শিশুর স্বভাবই এমন যে নতুন মানুষ বা জায়গায় মানিয়ে নিতে বাড়তি সময় লাগে। জোর করে সামনে ঠেলে দিলে বা "লাজুক" বলে লেবেল দিলে ভয় বাড়ে। বরং আগে থেকে প্রস্তুত করুন, ছোট ছোট সুযোগ দিন, আর শিশু নিজের গতিতে এগোলে সেটার প্রশংসা করুন। AAP এমন শিশুদের "slow to warm up" বলে: শুরুতে দূরে থাকে, পরে স্বাভাবিকভাবে মেশে।

এক নজরে: বয়স অনুযায়ী

বয়স সাধারণত যা দেখা যায় যা কাজে দেয়
১–২ বছর অপরিচিত দেখলে কান্না, কোলে লুকানো কোলে রেখে পরিচয় করানো, সময় দেওয়া
৩–৫ বছর নতুন জায়গায় চুপচাপ, দূর থেকে দেখা আগে থেকে জানানো, আগে পৌঁছানো
৬–৮ বছর ক্লাসে প্রশ্ন না করা, নতুন বন্ধুতে দ্বিধা এক-দুজন বন্ধুর সাথে খেলা, বাসায় চর্চা
৯–১২ বছর দলের সামনে কথা বলায় ভয় পছন্দের কাজে দক্ষতা, ছোট দায়িত্ব
১৩–১৭ বছর সামাজিক উদ্বেগ, অনলাইনে বেশি স্বস্তি শোনা, ছোট লক্ষ্য, প্রয়োজনে কাউন্সেলিং

যা সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়

  • আগে থেকে বলুন। "আজ বিকেলে খালামণি আসবেন, সাথে ওনার মেয়ে মিম। তোমরা লুডো খেলতে পারো।"
  • আগে পৌঁছান। জন্মদিনের পার্টিতে আগে গেলে ঘর ফাঁকা থাকে, শিশু ধীরে ধীরে মানিয়ে নিতে পারে।
  • ছোট দল দিয়ে শুরু। একজন বন্ধুকে বাসায় ডাকুন, বড় অনুষ্ঠানে নয়।
  • চর্চা করুন। পুতুল বা রোল-প্লে দিয়ে দোকানে কিছু চাওয়া, শিক্ষককে প্রশ্ন করা অনুশীলন করুন।
  • ছোট সাহসের প্রশংসা। "আজ তুমি নিজে দোকানদারকে টাকা দিলে। দারুণ!"

বয়স অনুযায়ী কী করবেন

১–২ বছর: অপরিচিতের ভয় স্বাভাবিক

আট-নয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত অপরিচিত মানুষ দেখে কান্না খুবই স্বাভাবিক। অতিথি এলেই কোলে তুলে দেবেন না। শিশুকে আপনার কোলে রেখে অতিথির সাথে কথা বলুন; শিশু দেখবে আপনি স্বস্তিতে আছেন, তারপর নিজেই এগোবে।

৩–৫ বছর: নিজের গতিতে

নতুন স্কুল, নতুন বাসা বা অনুষ্ঠানে প্রথমে দূর থেকে দেখতে দিন। জোর করে মঞ্চে তুলবেন না বা ছড়া বলাতে বলবেন না। বাসায় পরিবারের সামনে ছোট পারফরম্যান্স দিয়ে শুরু করুন।

৬–৮ বছর: এক-দুজন বন্ধু

অনেক বন্ধুর দরকার নেই, একজন ভালো বন্ধুই যথেষ্ট। ক্লাসের এক সহপাঠীকে বাসায় ডাকুন। শিক্ষককে জানিয়ে রাখুন যে শিশু শুরুতে চুপচাপ থাকে, তবে ছোট দলে ভালো করে।

৯–১২ বছর: দক্ষতা থেকে আত্মবিশ্বাস

যে কাজে শিশু ভালো (আঁকা, ক্রিকেট, কোডিং, রান্না), সেখানে সে বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে। সেই আগ্রহের ক্লাব বা দলে যুক্ত করুন। ছোট দায়িত্ব দিন: দোকানে কিছু কেনা, ফোনে আত্মীয়কে শুভেচ্ছা জানানো।

১৩–১৭ বছর: সামাজিক উদ্বেগ চিনুন

কিশোর বয়সে লাজুকতা কখনো সামাজিক উদ্বেগে রূপ নেয়। তার অনুভূতি হালকা করে দেখবেন না ("এতে লজ্জার কী আছে?")। ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন, যেমন সপ্তাহে একবার ক্লাসে প্রশ্ন করা। স্কুল এড়িয়ে যাওয়া শুরু হলে দেরি না করে কাউন্সেলরের সাথে কথা বলুন।

যা এড়িয়ে চলবেন

  • সবার সামনে "ও খুব লাজুক" বলা।
  • জোর করে কোলে দেওয়া, মঞ্চে তোলা বা কথা বলানো।
  • অন্য "চটপটে" শিশুর সাথে তুলনা।
  • শিশুর হয়ে সবসময় উত্তর দিয়ে দেওয়া; একটু অপেক্ষা করুন।

বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা

আমাদের সংস্কৃতিতে অতিথিকে সালাম দেওয়া, আত্মীয়দের কাছে গিয়ে বসা খুব গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়। শিশু না করলে বড়রা অনেক সময় "বেয়াদব" বা "লাজুক" বলে ফেলেন। আগে থেকে শিশুকে বিকল্প শিখিয়ে রাখুন: সালাম না বলতে পারলে অন্তত হাত নেড়ে বা হেসে সাড়া দেবে। বড়দের বুঝিয়ে বলুন যে সে একটু সময় নেয়।

কখন সাহায্য নেবেন

শিশু যদি স্কুলে বা পরিচিত জায়গাতেও একেবারে কথা না বলে, নতুন পরিবেশে প্রচণ্ড ভয় পায়, ভয়ের কারণে প্রায়ই পেটব্যথা-মাথাব্যথার কথা বলে, বা কিশোর বয়সে বন্ধুহীন ও একা হয়ে যায়, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা শিশু মনোবিদের পরামর্শ নিন। AAP-এর উদ্বেগ বিষয়ক পরামর্শ অনুযায়ী আগে সাহায্য পেলে ফল ভালো হয়।

সম্পর্কিত গাইড