কল্পনার খেলায় শিশু একটা চামচকে মাইক্রোফোন, একটা বাক্সকে গাড়ি বানিয়ে ফেলে। এই "ভান করা" খেলাতেই সে ভাষা, অন্যের অনুভূতি বোঝা, সমস্যা সমাধান আর নিজের ভয় সামলানো অনুশীলন করে। UNICEF মনে করিয়ে দেয়, শিশুর খেলার জন্য দামি খেলনার দরকার নেই; একটা পুরোনো ওড়না, হাঁড়ি-পাতিল আর আপনার একটু সময়ই যথেষ্ট।
এক নজরে: বয়স অনুযায়ী
| বয়স | কল্পনার ধরন | আইডিয়া |
|---|---|---|
| ০–৬ মাস | ভিত্তি তৈরি: মুখভঙ্গি, শব্দ নকল | মুখ দিয়ে শব্দ, পুতুল দেখিয়ে কথা |
| ৬–১২ মাস | অনুকরণ শুরু | ফোন কানে নেওয়ার খেলা, লুকোচুরি |
| ১–২ বছর | সহজ ভান: পুতুলকে খাওয়ানো | খেলনা কাপে চা, পুতুল ঘুম পাড়ানো |
| ৩–৫ বছর | চরিত্র ও গল্প | রান্নাবাটি, ডাক্তার, দোকান, বাস কন্ডাক্টর |
| ৬–৯ বছর | দলগত নাটক, নিয়মের খেলা | পুতুলনাচ, ছোট নাটক, অফিস-অফিস খেলা |
বয়স অনুযায়ী খেলা
০–৬ মাস: অনুকরণের ভিত
শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে জিভ বের করুন, হাসুন, শব্দ করুন; শিশু অনুকরণ করবে। নরম পুতুল দেখিয়ে কণ্ঠ বদলে কথা বলুন: "হ্যালো, আমি খরগোশ!"
৬–১২ মাস: অনুকরণের খেলা
- খেলনা ফোন বা পুরোনো ফোন কানে: "হ্যালো, নানু!"
- চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ানোর ভান।
- লুকোচুরি: ওড়নার নিচে লুকিয়ে "টুকি!"
১–২ বছর: প্রথম ভান
- পুতুলের যত্ন: পুতুলকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, গোসল করানো।
- চা-পার্টি: খালি কাপে "চা" খাওয়া, আপনাকে দেওয়া।
- গাড়ি চালানো: কার্টনে বসে "ভোঁ ভোঁ।"
৩–৫ বছর: চরিত্র আর গল্প
- রান্নাবাটি: হাঁড়ি-পাতিল, পানি, পাতা দিয়ে রান্না।
- ডাক্তার খেলা: খেলনা স্টেথোস্কোপ দিয়ে পুতুল দেখা। ডাক্তারের ভয় কমাতেও কাজে দেয়।
- দোকান খেলা: খালি প্যাকেট, কাগজের টাকা।
- বাস-রিকশা খেলা: চেয়ার সাজিয়ে বাস, শিশু কন্ডাক্টর।
- সাজার বাক্স: পুরোনো ওড়না, টুপি, ব্যাগ।
৬–৯ বছর: নাটক ও নির্মাণ
- ছোট নাটক: গল্প লিখে ভাইবোন-কাজিনরা মিলে অভিনয়।
- পুতুলনাচ: মোজা বা কাগজের ব্যাগ দিয়ে পুতুল।
- কাল্পনিক জগৎ: বাক্স দিয়ে শহর, লেগো দিয়ে মহাকাশযান।
- পেশার খেলা: শিক্ষক, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী।
বাবা-মায়ের ভূমিকা
- শিশুকে নেতৃত্ব দিন। আপনি রোগী, শিশু ডাক্তার।
- প্রশ্ন করে গল্প বাড়ান: "তারপর কী হলো?"
- নতুন শব্দ যোগ করুন: "আপনার কি জ্বর? থার্মোমিটার দেখি।"
- কঠিন অনুভূতি খেলায় আসুক। নতুন স্কুল, হাসপাতাল বা নতুন বাবুর ভয় খেলার মধ্যে প্রকাশ পায়; শুনুন।
যা এড়িয়ে চলবেন
- "এটা তো সত্যি না" বলে কল্পনা থামিয়ে দেওয়া।
- খেলনাকে ছেলে-মেয়ের বলে ভাগ করা।
- সবসময় তৈরি খেলনা দেওয়া; খোলা জিনিস (বাক্স, কাপড়) বেশি কল্পনা জাগায়।
- খেলা নিজের মতো চালানো।
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
রান্নাবাটি, পুতুলের বিয়ে, দোকান-দোকান আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলা। কাজিনদের সাথে এই খেলাগুলো শিশুর সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়। মাটির হাঁড়ি-পাতিল বা পুতুল মেলা থেকে কিনে দিতে পারেন। ছেলে শিশু রান্নাবাটি খেললে বা মেয়ে শিশু গাড়ি চালালে উৎসাহ দিন।
কখন পরামর্শ নেবেন
যদি ২–৩ বছরের মধ্যেও শিশু কোনো ভানের খেলা না করে (পুতুলকে খাওয়ানো, ফোনে কথা বলার ভান), অন্যের সাথে খেলায় একেবারে আগ্রহ না দেখায়, বা খেলনা শুধু সারি করে সাজায় এবং কথা ও চোখে চোখ রাখায়ও সমস্যা থাকে, তাহলে বিকাশ মূল্যায়নের জন্য শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
