নতুন মায়ের জন্য সবচেয়ে সুরক্ষাকারী জিনিসগুলোর একটি হলো একটি নির্ভরযোগ্য সহায়তার নেটওয়ার্ক: কে রান্না করবে, কে রাতে শিশুকে একটু ধরবে, কে চেকআপে সাথে যাবে, আর মন খারাপ হলে কার সাথে কথা বলবেন। এই নেটওয়ার্ক প্রসবের আগেই গড়ে নিন, আর প্রয়োজনের সময় নির্দিষ্ট করে সাহায্য চান। একা সবকিছু সামলানোর চেষ্টা মা ও শিশু দুজনের জন্যই ঝুঁকি বাড়ায়।
আপনার নেটওয়ার্কে কারা থাকবেন
| কে | কী ধরনের সাহায্য |
|---|---|
| স্বামী | রাতের কাজ ভাগ, চেকআপে সাথে যাওয়া, সিদ্ধান্তে সমান অংশ |
| মা, শাশুড়ি, বোন | রান্না, শিশুর যত্নের অভিজ্ঞতা, বিশ্রামের সুযোগ |
| বন্ধু ও প্রতিবেশী | খাবার পাঠানো, বাজার, কথা বলার সঙ্গী |
| স্বাস্থ্যকর্মী | চেকআপ, বুকের দুধ খাওয়ানো, বিপদের লক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য |
| অন্য নতুন মায়েরা | অভিজ্ঞতা ভাগ, "শুধু আমার নয়" অনুভূতি |
প্রতিটি ধাপে কী করবেন
গর্ভধারণের আগে
কাছের মানুষ কারা, কোন শহরে থাকেন, প্রসবের সময় কে আসতে পারবেন, ভাবুন। কাছের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিনে রাখুন।
প্রথম ত্রৈমাসিক
বিশ্বস্ত এক-দুজনকে আগে জানাতে পারেন, যাতে বমিভাব বা ক্লান্তির দিনে সাহায্য পান। চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করুন।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিক
একটি "সহায়তার তালিকা" বানান: প্রসবের পর প্রথম দুই সপ্তাহে কে রান্না করবেন, কে বাজার, কে বড় সন্তানকে দেখবেন, কে রাতে থাকবেন। জরুরি নম্বর, রক্তদাতা আর হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থাও তালিকায় রাখুন।
প্রসবের পর প্রথম তিন মাস
- নির্দিষ্ট করে চান: "সাহায্য লাগলে বলো" এর উত্তরে বলুন, "আজ রাতের খাবারটা পাঠাতে পারবে?"
- অতিথি সামলানো: দেখা করার সময় বেঁধে দিন; অসুস্থ কেউ নবজাতকের কাছে নয়; হাত ধোয়ার নিয়ম।
- বুকের দুধের সহায়তা: শুরুর কয়েক দিনে ঠিকভাবে মুখে নেওয়া (ল্যাচ) শিখতে নার্স বা ল্যাকটেশন পরামর্শকের সাহায্য নিন।
- অন্য মায়েদের সাথে যোগাযোগ: বিশ্বস্ত মায়েদের গ্রুপ একাকীত্ব কমায়; তবে স্বাস্থ্যের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শে নিন।
WHO প্রসব-পরবর্তী সময়ে মায়ের সামাজিক সহায়তা ও মানসিক সুস্থতায় নজর দেওয়াকে মানসম্মত সেবার অংশ হিসেবে দেখে।
মানসিক স্বাস্থ্য: একা থাকবেন না
প্রথম দুই সপ্তাহ কান্না, অস্থিরতা ও মন খারাপ ("বেবি ব্লুজ") সাধারণ। কিন্তু যদি:
- দুই সপ্তাহের বেশি মন খারাপ থাকে
- কিছুতেই আনন্দ না লাগে, শিশুর সাথে দূরত্ব লাগে
- অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, আতঙ্ক বা ঘুম না আসে
- নিজের বা শিশুর ক্ষতির চিন্তা আসে
তাহলে এটা প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা বা উদ্বেগ হতে পারে, যার চিকিৎসা আছে। দেরি না করে চিকিৎসকের সাহায্য নিন এবং কাছের মানুষকে জানান।
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
প্রসবের পর বাবার বাড়িতে যাওয়ার রীতি অনেক মায়ের জন্য বড় সহায়তা। আবার যারা শহরে একা ছোট পরিবারে থাকেন বা প্রবাসী, তাঁদের জন্য বিশ্বস্ত প্রতিবেশী, বন্ধু বা প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত সহায়ক রাখা জরুরি। মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বললে অনেকে "সব মায়েরই হয়" বলে উড়িয়ে দেন; আপনার অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ, চিকিৎসককে বলুন।
কখন জরুরি সাহায্য নেবেন
অতিরিক্ত রক্তপাত, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথাব্যথা বা খিঁচুনির মতো শারীরিক লক্ষণে, এবং নিজের বা শিশুর ক্ষতির চিন্তায় সাথে সাথে হাসপাতালে যান বা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করুন।
