ব্যর্থতা জীবনের অংশ, আর সন্তান সেটা কীভাবে সামলাবে, তা অনেকটাই শেখে বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া থেকে। খারাপ রেজাল্ট বা হারের পর প্রথমে অনুভূতি মেনে নিন, তারপর একসাথে খুঁজুন কী শেখা গেল, আর শেষে পরের ছোট পদক্ষেপ ঠিক করুন। বুদ্ধি বা প্রতিভার চেয়ে চেষ্টা ও কৌশলের প্রশংসা সন্তানকে শেখায় যে চেষ্টা করলে উন্নতি সম্ভব; একে বলে "গ্রোথ মাইন্ডসেট"।
তিন ধাপে সাড়া দিন
১. অনুভূতি: "এত পড়ার পরও এই ফল, তুমি খুব হতাশ। আমি পাশে আছি।" ২. শিক্ষা: শান্ত হলে: "কোন অংশটা কঠিন লেগেছিল? সময় কম ছিল, নাকি বোঝায় সমস্যা?" ৩. পরিকল্পনা: "পরের বার একটা জিনিস কী বদলাবে?" বড় প্রতিজ্ঞা নয়, ছোট বাস্তব পদক্ষেপ।
এক নজরে: বয়স অনুযায়ী
| বয়স | ব্যর্থতার ধরন | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ৬–৮ বছর | খেলায় হার, কাজ না পারা, কান্না | হারার খেলা চর্চা, "এখনও পারিনি" বলা |
| ৯–১২ বছর | পরীক্ষার খারাপ নম্বর, দলে না নেওয়া | কারণ খোঁজা, চেষ্টার প্রশংসা, নিজের অগ্রগতির সাথে তুলনা |
| ১৩–১৭ বছর | বোর্ড পরীক্ষা, ভর্তি, সম্পর্কের প্রত্যাখ্যান | শোনা, বিকল্প পথ দেখানো, মানসিক স্বাস্থ্যে নজর |
বয়স অনুযায়ী কী করবেন
৬–৮ বছর: হারতে শেখা
লুডো বা বোর্ড গেমে সবসময় ইচ্ছা করে হারবেন না। শিশু হারলে অনুভূতি মেনে নিন, তারপর বলুন, "আবার খেলবে?" "আমি পারি না" এর শেষে "এখনও" যোগ করতে শেখান: "আমি এখনও সাইকেল চালাতে পারি না।" নিজের ছোট ভুলও তার সামনে স্বীকার করুন: "আমি আজ তরকারিতে বেশি লবণ দিয়েছি, পরের বার মেপে দেব।"
৯–১২ বছর: কারণ খোঁজা ও অগ্রগতি
খারাপ নম্বরে "কেন কম পেলে?" জেরার বদলে একসাথে খাতা দেখুন: ভুল কোথায়, অসাবধানতা নাকি না বোঝা। অন্য শিশুর সাথে নয়, তার আগের ফলের সাথে তুলনা করুন। দলে না নেওয়া বা প্রতিযোগিতায় বাদ পড়ার দুঃখকে হালকা করে দেখবেন না।
১৩–১৭ বছর: বড় ব্যর্থতা, বড় অনুভূতি
এসএসসি-এইচএসসির ফল বা ভর্তি পরীক্ষায় না টেকা কিশোরের কাছে জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার মতো লাগতে পারে। প্রথম দিনগুলোতে উপদেশ নয়, পাশে থাকুন। তারপর বিকল্প পথ খোলাখুলি আলোচনা করুন: আরেকবার চেষ্টা, অন্য প্রতিষ্ঠান, অন্য বিষয়। নিজের বা পরিচিতদের ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলুন। WHO মনে করিয়ে দেয়, কিশোর বয়সে বিষণ্নতা ও উদ্বেগ সাধারণ, এবং সময়মতো সহায়তা জরুরি।
যা বলবেন, যা বলবেন না
| বলুন | বলবেন না |
|---|---|
| "তুমি অনেক চেষ্টা করেছ।" | "তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না।" |
| "কোন অংশটা কঠিন লেগেছে?" | "অমুকের ছেলে তো এ-প্লাস পেয়েছে।" |
| "একটা ফল তোমার মূল্য ঠিক করে না।" | "মানুষকে মুখ দেখাব কীভাবে?" |
| "পরের বার কী বদলাতে পারি?" | "আর কোনো আশা নেই।" |
বাংলাদেশের পরিবারে বাস্তবতা
রেজাল্টের দিন আত্মীয়-প্রতিবেশীর ফোন আর তুলনা অনেক পরিবারে চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। প্রয়োজনে কয়েকদিন সেসব আলোচনা থেকে সন্তানকে আড়াল করুন। মনে রাখবেন, অনেক সফল মানুষ জীবনের কোনো এক পরীক্ষায় ভালো করেননি। সন্তানের সামনে নিজের হতাশা নিয়ন্ত্রণে রাখুন; আপনার শান্ত প্রতিক্রিয়াই তার সবচেয়ে বড় ভরসা।
কখন জরুরি সাহায্য নেবেন
যদি সন্তান দুই সপ্তাহের বেশি মন খারাপ থাকে, খাওয়া-ঘুম বদলে যায়, বন্ধু ও পরিবার থেকে দূরে সরে যায়, নিজেকে মূল্যহীন বলে, বা নিজের ক্ষতি বা মৃত্যুর কথা বলে, তাহলে তাকে একা রাখবেন না এবং দেরি না করে মনোবিদ বা চিকিৎসকের সাহায্য নিন। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করুন।
